বাংলাদেশের ম্যাচে বিতর্কিত আম্পায়ারিং নিয়ে যা বলছেন তামিম


দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪ রানের হারের পর তুমুল বিতর্ক চলছে রিভিউয়ের ক্ষেত্রে আইসিসির ডেডবল নীতির। আম্পায়ারের দেয়া ভুল আউটের পর রিভিউ নিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বেঁচে গেলেও সেই বলে বাংলাদেশের পাওনা বাউন্ডারি আইসিসির আইনের মারপ্যাঁচে বাদ তো গেছেই, উল্টো বল গণনার কারণে চাপ বেড়েছে আরও। শেষ পর্যন্ত ডেডবলের কারণে বাতিল বাউন্ডারিটাই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।

নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার (১০ জুন) দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। সেই ম্যাচের আম্পায়ারিং নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। আম্পায়ারের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। যা ম্যাচের ফলে ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

বাংলাদেশ ৪ রানে ম্যাচ হারায় বেশি আলোচনায় ১৭তম ওভারে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। বার্টমানের করা সেই ওভারের দ্বিতীয় বলটি ফ্লিক করতে গিয়ে পায়ে লাগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। এরপর বলটি থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। প্রোটিয়ারা এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করলে আঙুল তুলে আউটের ঘোষণা দেন আম্পায়ার। কিন্তু টিভি পর্দাতেও খালি চোখেই মনে হচ্ছিল যে, বল লেগ স্টাপে পিচ হয়ে বাঁক নিয়ে অনেকটা বাইরে দিয়েই চলে যাচ্ছিল। রিয়াদ রিভিউ নিলে সেটাই দেখা যায়। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

তবে আউটের সিদ্ধান্ত বদলে গেলেও বাংলাদেশের রানের খাতায় ৪ রান যোগ হয়নি। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়ামাত্রই বলটি ডেড হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে বল এরপর বাউন্ডারি লাইন পার হলেও কিছু যায় আসে না। আর রিভিউ নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানো গেলেও বলটি ডেডবল বলেই বিবেচিত হবে। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনের অ্যাপেন্ডিক্স ডি’র ৩.৭ ধারায় ডিআরএস অবস্থার ডেডবলের নীতি আলোচিত হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি একজন খেলোয়াড় রিভিউয়ের আবেদন জানান, যেখানে অরিজিনাল ডিসিশন (আম্পায়ার্স কল) আউট থেকে বদলে নটআউট হয়, তবে বলটি তখনও ডেডবল বলে বিবেচিত হবে যখন প্রথম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল তখনকার মতোই।’

বাংলাদেশের ৪ রানের হারের পর সেই বাউন্ডারিটিই আক্ষেপ হয়ে পোড়াচ্ছে টাইগার সমর্থকদের। অনেকেই সমালোচনা করছেন আইসিসির এই নিয়মের, যে তালিকায় আছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালও।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর টাইমউট পডকাস্টে তামিম আইসিসির আইন বদলের আহ্বান জানান। ফুটবলে ভিএআর পদ্ধতি যেভাবে কাজ করে সেভাবেই ক্রিকেটের ডিআরএস নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া উচিত বলে সহআলোচকদের সঙ্গে একমত হন তিনি। তার মতে, সিদ্ধান্ত দেয়ার ব্যাপারে আরও সময় নেওয়া উচিত আম্পায়ারদের।

তামিম বলেন, ‘আপনার (আম্পায়ার) হাতে সময় আছে, আপনি দুই মিনিট অপেক্ষা করে দেখেন বলটা কোথায় যায়, এটা বাউন্ডারি নাকি বাউন্ডারি নয়- এরপর সিদ্ধান্ত নিন।’

তামিম যোগ করেন, ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, যদি ব্যাটার নটআউট থাকেন এবং বল তার থাইপ্যাড কিংবা প্যাডে লাগে এবং বাউন্ডারির দিকে ছুটতে থাকে, এটাকে অবশ্যই রান হিসেবে দেয়া উচিত।’

সেই ৪ রান যোগ হলে বাংলাদেশের ভাগ্য অন্যরকমও হতে পারতো বলে মনে করেন তামিম, ‘ওই চার রান হয়তো বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিত, এটা হতেই পারত। মনে হতে পারে আমি একজন সমর্থকের মতো কথা বলছি, কিন্তু আপনি যদি এটা নিয়ে ভাবেন, সেই চার রান সত্যি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি ধারাভাষ্য শুনছিলাম, নাসির হুসেইন, প্রত্যেকেই এটা নিয়ে বলছিলেন। আমার মনে হয়, এটা এমন একটা ব্যাপার, যা নিয়ে আইসিসির গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত। কারণ এটা এমন একটা ইস্যু, যেটা সহজেই সমাধান করা যায়।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *